Posts

অপেক্ষা...

একা ভাল লাগছে না। অনেকক্ষন থেকেই তো অপেক্ষা করছি। আজ বুঝি সে আর আসবে না। পাঁচ টাকা করে মোট পনেরো টাকার বাদাম কিনে ফেলেছি। বাদামওয়ালা আশেপাশে ঘুরঘুর করছে আরো যদি পাঁচ টাকার বাদাম কিনে ফেলি। বহুবার বলেছি পাচটায় আসতে। সাতটায় টিউশনিতে যেতে হবে। মাসের শুরু। এখন মিস দিলে বেতন দেওয়ার সময় কেমন যেন একটা ভাব করে তাকায় মনে হয় সারামাস না পড়িয়েই বেতন নিতে আজ চলে এসেছি। এই জন্যই তো মাসের শেষ সপ্তাহে ইচ্ছে করেই চারদিন যাই আর মাসের শুরুতে সপ্তাহে ছয়দিন। ঘড়িতে ছয়টা পনেরো। এক ঘন্টা পনেরো মিনিট হয়ে গেছে একা বসে আছি। ওর সময় আমার জন্য যদি অপেক্ষা করতে হত তাহলে পনেরো মিনিট অপেক্ষা করেই চলে যেত। আর সে কি অভিমান। সে রাগ ভাঙ্গাতে আমাকে এই রকম প্রতিবার পনেরো মিনিট আগে এসে তার জন্য অপেক্ষা করতে হত। কিন্তু আজ এত সময় নিচ্ছে কেন বুঝতে পারছি না। বাসা থেকে বের হতে না পারলে অন্তঃত একটা কল তো দিত। রিক্সা খুঁজে আসতে হলেও তো আধঘন্টার বেশি সময় লাগার কথা না। -মাম্মা আরো পাঁচ ট্যাকার বাদাম দিমু? নাকি এক্কেবারে দশ ট্যাকার লইয়া লইবেন? উনি আসলে তখন আমারে খুজলে পাইবেন না। - দূরে গিয়া মর। যাহ সামনে থেইক্কা! মেজাজ খারাপ...

প্রানহীন পথচলা

একটা বসন্ত বাকী আছে।  এখনো কিছু স্বপ্ন রয়েছে। কিছুদূর আছে পথচলার বাকী। কিন্তু মন ক্রমশই প্রানহীন হয়ে পড়তে শুরু করেছে। যে পথ দিগন্তরেখায় মিশে অস্পষ্ট  ছিলো এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তবে কি এই শীতে পাতা ঝরা রাস্তার পথে হেঁটে দিগন্তপাড়ি শেষ শীতের সময়গুলো? শীতের পরে যে বসন্ত সেটা তবে কি হবে নতুন করে ভালবেসে হারিয়ে যাবার জন্য শেষ প্রানের উচ্ছ্বাস? পথ চলতে চলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরে পা দিলাম। কিন্তু এই শেষ-কে মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সবকিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। বন্ধুদের সাথে সেই আড্ডার জায়গা, প্রান খোলা হাসির সময়গুলো, স্যারদের স্নেহ, বাসের সিট সবকিছু। ব্যস্ততা বাড়ছে। জীবনের সব সুখের সময়গুলোর শেষের দিকে। এক্ষন শুধু অপেক্ষায় থাকা কবে ছেড়ে যাবো সবাইকে আর শুরু করবো এক নতুন প্রানহীন পথচলার।

চিঠি

সেদিন রাতে তোমাকে লিখা আমার চিঠিটার উত্তর আজও পাই নি। প্রতিদিন-ই ডাকবক্স দেখি কিন্তু শুন্য হাতে ঘরে ফিরে যাই। এখান থেকে ডাক অফিস বেশি দূরে নয়। আর প্রতিদিন-ই ভাবি কোন এক কাজের ফাঁকে খোঁজ নিয়ে আসবো আমার নামে কোন চিঠি এসেছে কিনা। আচ্ছা চিঠির উত্তর দিয়েছ তো? রাত অনেক হয়েছে। জেগে আছি। ঘরের আলো নিভিয়ে জাগতে ইচ্ছে করছে না বলে টেবিল ল্যম্পের আলোয় অন্ধকার ভাব দূর হচ্ছে। চিন্তার আরো গভীরে। প্রিয়, উত্তর দিতে দেরি হচ্ছে বলে কিছু মনে করছো না-তো? কি করবো বলো মা আমার সাথে রাত জেগে পাশে বসে থাকে। পড়ার বই-য়ে তাকিয়ে তোমার কথা ভাবি। কত কথা মনে আসে তোমাকে নিয়ে। অনেক কথা লিখে রাখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু পারি না। তোমার চিঠি হেলাল ভাই যেদিন দিয়ে গেলো আমার মনে হলো হলুদ খামের ভিতর তুমি নিজেই চলে এসেছো। আনন্দে আত্মহারা হয়ে খোলা মাঠে ছুটেছি। তোমাকে নিয়ে কোথায় কোথায় যাব ভেবেছি। জমির মামার পুকুর ঘাটে বসে যখন তোমার চিঠি খুলে পড়তে শুরু করলাম মনে হচ্ছিল তুমি সামনে বসে আমাকে তোমার মনের কথা শুনিয়ে যাচ্ছো। কেমন আছো? অপেক্ষায় থেকে থেকে আমার সাথে রাগ করেছ বুঝি। রাগ করে না লক্ষী আমার। তোমাকে দেখার জন্যে, কছে পাওয়ার ...

একা আমার এই আমি

ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০০৯ ভারী কুয়াশার শীতের সকাল। মনটা ভীষন খারাপ করে বসে আছি আর কিছুক্ষন পর পর চোখের পানি মুছতেছি। খুব কষ্টের মাঝেও আনন্দ হচ্ছিল। তবে আনন্দ বা কষ্ট যাই ছিল সবকিছুর জন্য দোষ দিয়েছি আমার স্যার (খালেদ হাসান)-কে। তার জন্যই আমাকে গাজিপুর ছেড়ে সিলেট যেতে হবে। তিনি যদি ভর্তি করার জন্য এমন না করতেন তবে আজ ফ্যমিলির সাথে-ই গাজিপুর থাকতে পারতাম। কিন্তু পরে আদৌ কি কোথাও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতাম কিনা জানি না। তাতে কি অন্তঃত গাজিপুরতো ছাড়তে হত না। এখন এসব ভেবে লাভ নেই তাই মনে যত কষ্ট আর ক্ষোভ থাকুক আমাকে সিলেট যেতেই হবে আর এখন আমার ব্যগ গোছাতে হবে। মা আর মারুফ ভাইয়া কি করছে কিছুতেই মনোযোগ নেই। বাবা মেসে থাকার জন্য নতুন বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, মশারি কিনে এনেছে। মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। এখন থেকে আমাকে একা থাকতে হবে, নিজে-কে নিয়ে খেতে হবে। মা আর রাত জেগে খাঁ খাঁ করবে না। আমিও আর এটা খাব না ওটা খাব না এমন করবো না। আবার চোখে পানি চলে এসে গেলো। রাতের ট্রেন উপবন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।। দুপুরে খেয়ে ঘুমাতে পারলাম না। কম্পিউটারে যত কষ্টের গান ছিল (মানে না মন বুঝে না ব্যথা......

এক কাপ চা

সন্ধ্যায় এক কাপ চা। তবে এক কাপ যেন এক মগ এর সমান। শেষ হতে চায় না। কখনো আবশ্য অতৃপ্ত হই না। চা খাওয়ার জন্যই ছুটে যাই মনে হয়। আর পড়ানো-টা দায়িত্ব থেকে। পড়ানো শুরু-টা হয় শখ থেকে-ই। আমি যখন দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিষ্টার-এ। সন্ধার পর বন্ধুরা ব্যস্ত। আমাকে তখন অপেক্ষা করতে হতো। তাদের ঘরে ফেরা পর্যন্ত। বিকেল থেকে রাত দশ কোন কাজ ছাড়া-ই। সন্ধ্যায় পড়তে বসতে ভালো লাগে না। তাই সময় কাটানোর জন্য একটা টিউশনি খুঁজতে থাকি। স্টুডেন্ট খুঁজে দেয় আমার বন্ধু সিমি। তার খালার মেয়ে-কে পড়াব। ষষ্ঠ শ্রেণী। প্রথম কাউকে পড়াব। ভয় লাগছিলো তবে তার থেকে বেশি উত্তেজনা ছিল। প্রথম যেদিন যাই আমি একটু নার্ভাস feel করলাম। কি পড়ব, শুরু করব কিভাবে সব কিছুই এলোমেলো আর অগুছালো লাগলো। যেহেতু কখনো পড়াইনি তাই প্রথম দিন পড়াতে পড়াতে আড়াই ঘন্টা কিভাবে যে কেটে গেল বুঝতে পারলাম না। পড়ানোর মাঝে এক কাপ চা আর নামহীন (এখনো জানা হয় নি) খাবার। প্রথম দিকে আমি ঠিক ঠিক সময়ে গিয়ে পড়াতাম। সময়ের সাথে সাথে নিজের ব্যতিক্রম শুরু হল। ছয়টায় পড়াতে যাওয়ার কথা থাকলে যাই সাতটায়। যেদিন বন্ধ থাকার কথা সেদিন যাই আবার অনেকসময় তার উলটা। তবে যখন-ই যাই না ...

টেলিফোন কল

প্রাপ্তি কি একটু বেশি-ই ছিল অনেকটা মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মত? না পাওয়ার শুন্যতা কি হারিয়ে ফেলেছিলাম পাবার পর? নাকি সবকিছু-ই ছিল তোমার আমার ভালোবাসার খেলা? ভালোবাসার জন্যে কিনা জানি না তুমি এসেছিলে আমার কাছে। হঠাৎ কোন এক দুপুরে তোমার আগমনি বার্তা আমাকে ভাসায়েছিলো ভালোবাসার জোয়ারে। ভালোবাসা কি বুঝতে পেরেছিলাম, পেরেছিলাম কেমন করে কথা বলতে হয় ভালবাসার মানুষটির সাথে। শুনতে চেয়েছিলে তুমি ভালোবাসি তোমায়, বলতে পারিনি ভালবাসি। বলেছি অপেক্ষা করো। সময় দাও। ভালোবাসতে দাও। ভালোবাসি ভালোবাসা ছাড়া বলি কিভাবে। তবুও কোন এক রাতে আমাকে পাওয়ার জন্যে তোমার কান্না আর আমার হৃদয়ের শুন্যতা পূরনে তোমায় বলেছি " আমি তোমাকে ভালোবাসি"। জানি না কেন জানি নিজের কান্না আর থামাতে পারিনি তখন। অপরাধি লাগছিলো।মনে হয়েছে সবকিছু দূরে ঠেলে দিচ্ছি। কোন একজনের অপেক্ষায় আমি আশায় যে বুক বেধেছিলাম তাকে আজ হয়তো আর পাওয়া হল না। তারপরও তোমার টেলিফোন কল, তোমার জন্যে অপেক্ষা, সবকিছু পিছনে ফেলে স্বপ্ন দেখিয়েছিলো তোমাকে কাছে পাবার নতূনভাবে পথচলতে। আজ তুমি দূরে। আমি-ই তোমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছি। তোমার শেষ টেলিফোন কল আমাকে বেচ...

ছন্দহীন কবিতা

যত কিছু মনে পড়ে যত কিছু ভাললাগে সব কিছুই শুধু শূন্যতা নীরবতা আর কিছু কাব্যকথা। তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা না পাওয়ার দুঃখ ব্যথা তবুও বার বার ফিরে চাওয়া। বিকেলের সোনা যেমন ঝিলের জলে  প্রণয়ের রঙ ছড়িয়ে ছন্দ তুলে, এমনি চাওয়ার ছিল তোমার কাছে।